নোটিশ
সংবাদকর্মী আবশ্যক: সকল বিভাগের জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি জরুরী ভিত্তিতে নেওয়া হবে। আগ্রহীরা  যোগাযোগ: ০১৭২৯২৫৮৬৮০ । অভজ্ঞি সম্পন্ন এবং কাজরে প্রতি দায়িত্বশীল প্রার্থীদের অগ্রাধীকার দেওয়া হবে।
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন ১৯

আয়া সোফিয়ায় আবার আজান ও কিছু কথা

বায়েজিদ হোসেন , কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক / ৭৩ বার
সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
আয়া সোফিয়া

বিজ্ঞাপন ২০

পুরো পৃথিবী ধুঁকছে কোভিড -১৯ বা করোনা ভাইরাসে ৷ এই বিশ্বব্যাপী মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই ক্ষমতালোভীদের আগ্রাসী কর্মকান্ড ৷ লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীনের যুদ্ধংদেহী অবস্থান ৷ সৈন্য সামন্ত ভারী অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া চলছে ৷ নর্থ কোরিয়া ও ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার মধ্য চলতে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ৷ ভূমধ্যসাগরে শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যস্ত ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ৷ এর মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হলো তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ আয়া সোফিয়া কে মসজিদ বানানোর ঘটনা ৷ গত ১০ জুলাই তুরস্কের আদালত আয়া সোফিয়া কে মসজিদ করার আদেশ দেন এবং রায়ের পরে তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান মসজিদ করার নির্বাহী আদেশে সই করেন ৷২৪ জুলাই শুক্রবার ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজান হয় এবং জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় ৷ এর পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী ৷ তার ছোঁয়া এসেছে বাংলাদেশেও ৷ পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে টেলিভিসন , খবরের কাগজ আর সোস্যাল মিডিয়ায় ৷ পক্ষে বিপক্ষে যাবার আগে আসুন দেখে আসি আয়া সোফিয়ার ইতিহাস ৷ রোমের সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথমের আদেশে ৫৩২ এবং ৫৩৭ এর মধ্যে কনস্টান্টিনোপলের( বর্তমান ইস্তাম্বুল) খ্রিস্টান ক্যাথেড্রাল হিসাবে আয়া সোফিয়া নির্মিত হয় ৷ ব্যাসিলিকাটি মাইলাতাসের গ্রীক জিওমিটার ইসিডোর এবং ট্রেলসের অ্যান্থিমিয়াস ক্যাথেড্রালটির ডিজাইন করেছিলেন। বর্তমান জাস্টিনিয়ান ইমারতটি একই স্থানে অধিষ্ঠিত তৃতীয় গির্জা, এর আগে এটি নিকা দাঙ্গায় ধ্বংস হয়েছিল।
কনস্টান্টিনোপলের একিউম্যানিকাল মহাবিশপ এপিসোপাল সী অনুসারে ১৫১৫ সালে সেভিল ক্যাথেড্রাল সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত
প্রায় এক হাজার বছর ধরে এটিই ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাথেড্রাল। ১২০৪ সালে, এটি চতুর্থ ক্রুসেডারদের দ্বারা লাতিন সাম্রাজ্যের অধীনে রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ১২৬১ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের ফিরে আসার পরে পূর্ব অর্থোডক্স চার্চে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। ১৪৫৩ সালে উসমানীয় শাসক দ্বিতীয় মুহাম্মদ  হাতে বাইজেন্টাইন সম্রাট একাদশ কনস্ট্যান্টাইন ড্রাগাসেসের পরাজয়ের মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল এর পতনের ঘটে ৷ প্রায় ১৮ বার আক্রমনের পর উসমানীয়রা কনস্টান্টিনোপল দখল করতে সামর্থ্য হন৷
তরুণ তুর্কী সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্খকে মন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করেন, গির্জায় সমবেত হয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে নিয়মিত প্রার্থনা করার অনুমতি দেন। ধর্মযাজকদের ওপর হতে জিজিয়া কর মওকুফ করে।যুদ্ধে কনস্ট্যান্টিনোপলের বহু খ্রিস্টান বাসিন্দা নিহত হয়েছিলেন। অনেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে নগরের জনসংখ্যা কমে যায়। অচিরেই রোমেলি ও আনাতোলিয়া থেকে বহু নাগরিক এনে তাদেরকে কনস্ট্যান্টিনোপলে বসবাস করানো হয়। ফলে নতুন তুর্কি রাজধানীতে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু ও খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। ফলে উপাসনালয়ের সংখ্যায়ও পরিবর্তন আসে। আয়া সোফিয়া ছিল কনস্ট্যান্টিনোপলের সবচেয়ে বড় চার্চ ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। সেই যুগে এশিয়া ও ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বী সাম্রাজ্য ও সালতানাতসমূহে ধর্মের প্রভাব ছিল খুব বেশি। মুসলিম আইনশাস্ত্র (ফিকহ) অনুযায়ী কোন মুসলিম শহরে অমুসলিমদের জৌলুসপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা থাকবে না, যা মসজিদের চেয়ে বৃহৎ ও অধিক দৃষ্টিগোচর।
অতএব আয়া সোফিয়াকে চার্চ হিসেবে বহাল রাখার সুযোগ ছিল না। একটা উপায় ছিল ভেঙে ফেলা। কিন্তু এরচে’ উত্তম বিকল্প হল মসজিদে রূপান্তর।১৪৫৩ সালের ১ জুনে মসজিদে রূপান্তরিত আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মত জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ইমামতি করেন সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ এর শিক্ষক শায়খ আক শামসুদ্দিন। যা মসজিদ হিসাবে বহাল ছিল প্রায় পাঁচশত বছর ৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কে উসমানীয় খেলাফতের অবসান হয়। কামাল পাশা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করে এবং স্থাপনাটি ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও স্বাধীন তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি “মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক” যাদুঘরে রূপান্তর করেন। যা তুরস্কের দ্বিতীয় দর্শার্থী আসা পর্যটন কেন্দ্রে রুপ নেয় ৷ ২০২০ সালে রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান এর মন্ত্রীসভা ১৯৩৫ সালে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ৷
এখন প্রশ্ন হল যে আইনের বলে ১৪৫৩ সালে আয়া সোফিয়াকে প্রথম মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় অর্থাৎ কোন মুসলিম শহরে অমুসলিমদের জৌলুসপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা থাকবে না, যা মসজিদের চেয়ে বৃহৎ ও অধিক দৃষ্টিগোচর। একই নিয়মে রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের মাধ্যমে আয়া সোফিয়া পুনরায়  মসজিদে রুপান্তরিত হওয়ার পর বিভিন্ন অমুসলিম দেশ সমূহের সরকার প্রধানগন যদি তাদের দেশের গ্রান্ড মসজিদ গুলোকে পরিবর্তন করে তা কি মুসলিম বিশ্বের জন্য সুখকর হবে ? বা মুসলিম বিশ্ব কি তা মেনে নিবে ? উদাহরণ স্বরুপ যদি বলি অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ( যদিও হিন্দুধর্মালম্বীরা রামের জন্মস্থান হিসাবে দাবী করেন ) এর জায়গায় একই নিয়মে ভারত সরকার মন্দির তৈরীর উদ্যোগ নেয় তা কি মুসলিম বিশ্ব মেনে নিবে ? এরদোয়ান জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরিত করলো নাকি চার্চকে মসজিদে নাকি মুসলিম বিশ্বকে একটি ন্যাক্কারজনক অবস্থানে ঠেলে দিলো ? যুগে যুগে সংখ্যা গুরুদের শাসকগোষ্ঠী ধর্মকে পুঁজি করে ক্ষমতার মসনদ পাকা করার জন্য ধর্মকে সামনে ঠেলে ফলে ধর্ম হয় সমালোচিত কিন্ত ধর্মান্ধ সাধাণ সংখ্যাগুরুদের ভোটে শাসকগোষ্ঠীর লাভের পাল্লা ভারী হয় ৷ আসলে ভাটা পড়তে থাকা জনপ্রিয়তা আবার আকাশচুম্বী করাই মূল উদ্দেশ্য  আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত এরদোয়ান প্রশাসনের একটি কৌশল মাত্র ৷

bayezidhossen18@gmail.com

*** লেখাটি লেখকের নিজস্ব মতামত , কোন মতামতের কতৃপক্ষ দায়ী নয় ৷

বিজ্ঞাপন ২০


এই বিভাগের আরও খবর

বিজ্ঞাপন ২১

পুরাতন সংবাদ

বিজ্ঞাপন ২২