নোটিশ
সংবাদকর্মী আবশ্যক: সকল বিভাগের জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি জরুরী ভিত্তিতে নেওয়া হবে। আগ্রহীরা  যোগাযোগ: ০১৭২৯২৫৮৬৮০ । অভজ্ঞি সম্পন্ন এবং কাজরে প্রতি দায়িত্বশীল প্রার্থীদের অগ্রাধীকার দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপন ১৯

ভোটারদের কারনে দূর্নীতিবাজ ও অযোগ্য হয়ে উঠছে চেয়ারম্যান

ফয়সাল আহমেদ / ৬৫ বার
সময়: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

বিজ্ঞাপন ২০

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সুতরাং প্রতিটি স্তরেই গণতন্ত্রের রুপরেখা রয়েছে। গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ রুপ-রেখা প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যাবস্থায়। স্বভাবত বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ থেকে স্থানীয় সংসদ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া টি সুস্থভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

“আজ জানাতে চাই বাংলাদেশের স্থানীয় সংসদ নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত প্রক্রিয়া ও দুর্নীতির গল্প”।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে যেমন পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ঠিক তেমনি স্থানীয় সংসদ নির্বাচন ও পাঁচ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।সকল স্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়া টি অনুষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক উপায়ে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসছে।

দেশে যখন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর অল্প কিছুদিন বাকি তখন পাড়ায়-পাড়ায় উল্লাসে উল্লাসিত হয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পরমুহূর্তে। দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায় জনপ্রতিনিধিদের। কে কার চেয়ে আগে এগিয়ে থাকতে পারে প্রচার প্রচারণার দিক থেকে। শুরু হয়ে যায় দোয়া চাওয়া!

যদি আমরা একটু লক্ষ্য করি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সর্বস্তরের প্রতিনিধি। যেহেতু বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সেহেতু বাংলাদেশের নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে এটাই স্বাভাবিক। এই যে কেউ অংশগ্রহণ করার কারণে অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হচ্ছে অনেক জনপ্রতিনিধিকে অযোগ্য হিসেবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান খুব অল্প লেখাপড়া জানেন আবার অনেকে নিজের নামটিও লিখতে জানেন না এমন ঘটনা আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে এর দায় আমি সরকারকে নয় দিতে চাই ভোটারদের।কারণ যখন নির্বাচন আসে তখন আমরা উঠেপড়ে লাগি আমার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য।কিন্তু চিন্তা করিনা আমার প্রার্থী কতটা যোগ্য। অনেক সময় আর্থিক লোভ দেখিয়েও ভোটারদেরকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে থাকি। অনেক ভোটাররা আর্থিক লোভ সামলাতে না পেরে জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময় তার ভর্তি বিক্রি করে দিচ্ছে একজন অযোগ্য জনপ্রতিনিধির কাছে যে কিনা চেয়ারম্যান হওয়ার মত যোগ্যতা রাখে না।

অযোগ্য চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হওয়ার কারণে যোগ্য প্রতিনিধি গুলো দিন দিন নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আবার কেউবা লেগেই আছে নির্বাচনের সাথে কেবলমাত্র এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু পেরে উঠছে না ভোটারদের কারণে।

দেখা যায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছে একজন জনপ্রতিনিধির চেয়ে শতগুণ বেশি। এদের কে আমরা সারা বছর বাহ বাহ দেই কিন্তু ভোটের বেলায় অযোগ্য প্রার্থীকেই বেঁচে নেই টাকার বিনিময়ে।তাহলে বলুন দোষ কার?অবশ্যই আমার আপনার।

দেখা যায় অযোগ্য চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন তো করেই না বরং এলাকাকে জরাজীর্ণে পরিণত করে ফেলে। এলাকার যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্নীতির ভয়াবহতা। আবার আমরা অনেক সময় দেখতে পাই সরকারের পক্ষ থেকে অসহায়দের জন্য দেওয়া বিভিন্ন ভাতা উপভোগ কারীদেরকে অর্থের মাধ্যমে ভাতার কার্ড তৈরি করতে হয়।যদি অর্থ প্রদান করা না হয় তাহলে তার ভাতার কার্ড টি হয়না। আর যদি দেখা যায় ভোটার তার পক্ষে ছিল না তখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পিছে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়ে যেতে হয় একটি ভাতার কার্ড এর জন্য।

এখন বলতে চাই আপনি নির্বাচনের সময় সামান্য কয়টা টাকার জন্য একজন যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই না করে অযোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন আপনার মুল্যবান ভোটের মাধ্যমে। এখন তো আপনাকে অবশ্যই তার পিছনে ঘুরে হয়রানি হতে হবে কারণ সে যে অর্থ খরচ করেছে নির্বাচনের সময় সেটা তো আপনাদের মাধ্যমে উসুল করবে। আপনি সামান্য কয়টা টাকার জন্য একজন যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে না নারাজ ছিলেন। তাহলে কেমন করে ভাবেন আপনিও যেকোনো সুবিধা ভোগের জন্য অর্থ ছাড়া তার মাধ্যমে সুবিধা ভোগ করবেন। এটা যদি আপনি ভেবে থাকেন যে আপনি অর্থ ছাড়া যেকোনো সেবা ভোগ করবেন এটা বোকার মত ভাবনা হবে। আমি বলবো আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

অনেক সময় দেখা যায় রাষ্ট্রীয় কোনো চিঠিপত্র আসলে সেটা না বুঝেই আবার ফেরত দিয়ে দেয় সরকারের কোষাগারে। অনেক সময় দেখা যায় এজন্য জেলার জেলা প্রশাসক চেয়ারম্যান কে চিঠি দিয়ে থাকে আপনি চেয়ারম্যান হিসেবে ততটা যোগ্য হয়ে ওঠেন নি। আবার দেখা যায় অনেক চেয়ারম্যান নিজের নামটি পর্যন্ত লিখতে জানেন না।

যদি আমরা অর্থের লোভ না করে একজন শিক্ষিত এবং যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করি তাহলে তার তার দ্বারা এলাকার উন্নয়ন না হলেও দুর্নীতি খুব একটা হবে বলে মনে হয় না। কারণ “সুশিক্ষায় শিক্ষিত যেই জন দূর্নীতির করাল-গ্রাস থেকে মুক্ত সেইজন”। তিনি জানেন দুর্নীতি করা অন্যায়।দুর্নীতি করার ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন এলাকার একজন মুচি -কামারের কাছে। এই-মুচি কামারের কাছে যাতে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ না হন এজন্য তার নিরলস প্রচেষ্টা থাকে এলাকায় ভালো কিছু করার জন্য। নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেয় এলাকাবাসীর জন্য। অপরের দুঃখে ব্যথিত হবেন, সুখে সুখ পাবেন এটা ই থাকে তার লক্ষ্য।যে কোন বিচার সুস্থতার সহিত সমাধান করে থাকেন নিজের আদর্শকে টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও। অন্যায়ের কাছে মাথা নত তিনি করবে না সামান্য কিছু চাটুকারদের কাছে।কারন তার জানা আছে সেই মহান বাক্যটি “অপরের জন্য বিলিয়ে দাও তোমার এই জীবনখানি মুক্তি পাবে পরকালে”।

আসুন আমরা নিজেরা সচেতন হই অপরকে সচেতন করি। অর্থের লোভে লোভী না হয়ে এলাকার উন্নয়নের লোভী হয়ে একজন শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীকে আমাদের মহা মূল্যবান ভোটটি প্রদান করে জয়যুক্ত করি।নিজের এলাকা কে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে আমাদের ভূমিকা রাখি। তাহলেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সম্ভব হবে।

বিঃদ্রঃ মতামতের জন্য কতৃপক্ষ দায়ী নয় ৷

বিজ্ঞাপন ২০


এই বিভাগের আরও খবর

বিজ্ঞাপন ২১

পুরাতন সংবাদ

বিজ্ঞাপন ২২

প্রযুক্তি সহায়তায় আল-ফাহাদ কম্পিউটার